শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
হলঘেঁষে ভবন! শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস
রকিব হাসান প্রান্ত, জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ছাড়াই আবাসিক হলসংলগ্ন এলাকায় চারুকলা বিভাগের একাডেমিক ভবন নির্মাণ পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ।
বুধবার (১৪ মে) বিকেলে শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ভবন নির্মাণের নির্ধারিত স্থানে প্রতিবাদ জানান। তারা সেখানে স্থাপিত লোহার খুঁটি ও টিনের বেষ্টনী ভেঙে গাছ রোপণের মাধ্যমে প্রতীকী প্রতিবাদ করেন।
তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের দাবিকৃত মাস্টারপ্ল্যানের অনুপস্থিতিতে নির্মাণকাজ শুরু করা মানে পরিবেশ ধ্বংসের দ্বার খুলে দেওয়া। তারা আরও বলেন, লেকপাড়ে ভবন নির্মাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য এবং পরিযায়ী পাখিদের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
শহীদ সালাম বরকত হলের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল মোমেন জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়েই এই জায়গায় ভবন নির্মাণের চেষ্টা চালানো হয়। ছাত্রদের গণস্বাক্ষর ও ধারাবাহিক আন্দোলনের পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ওঠে। সেখানে পরিবেশ ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় জায়গা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সেই সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের পরও কেন আবার আগের স্থানে নির্মাণ কাজ শুরু হলো?”
তিনি আরও জানান, “গত ১৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শহীদ সালাম বরকত হলের শিক্ষার্থীরা আজকে গাছ রোপণ করে স্থানটিকে উন্মুক্ত রাখতে চায়। কিন্তু চারুকলা বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী উল্টো আমাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটুক্তি করে।”
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের (একাংশ) সভাপতি আলিফ মাহমুদ বলেন, “গত তিন দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণে ২৮ শতাংশ জলাশয় ও সবুজ এলাকা হারিয়ে গেছে। মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া নতুন ভবন নির্মাণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
একই সংগঠনের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর ইসলাম ইমন অভিযোগ করেন, “এই প্রকল্পে ডিপিপি জালিয়াতি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) না করা এবং ছাত্রলীগের মাধ্যমে প্রতিবাদ দমন করার মতো গুরুতর বিষয় রয়েছে।”
শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন- এ ধরনের অপরিকল্পিত নির্মাণ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এটি আবাসিক শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাবে। ভবিষ্যৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে টেকসই, অংশগ্রহণমূলক এবং পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।